পোস্টগুলি

পাগল মন

 পাগল মন তুমি যদি ভাবো তুমি সবজান্তা!!!!! তবে জীবনে আর কিছুই শিখতে পারবে না। জীবনে অনেক কিছুই শেখার আছে!!!জানার আছে!!! শেখার কোনও বয়স হয় না -------- তাই সবজান্তা না ভেবে শেখার চেষ্টা কর। সোমা গাঙ্গুলী

জাস্ট ইমাজিন

ছবি
  জাস্ট ইমাজিন  মাঝে  মাঝে  মনে হয় তোকে গিয়ে জড়িয়ে ধরি !!!আদর করি !!! খুব ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।মনে হয় হাতে  হাত ধরে  হাঁটতে থাকি দুজনে ।যে দিকে দুচোখ যায় সেদিকে শুধু তুই  আর আমি!! জুম বলে ,  কবে যে আসবে সে দিন-------  কি রে ,কিছু বললি না যে--‐ নীল ফোনটা নামিয়ে বলে ,বসের  ডাক পড়েছে।চললাম!!! তুই  না  একটা হোপলেস ,বুঝলি। কিছুক্ষন পর বসের রুম থেকে ফিরে এসে নীল বলে ,শোন্  জুম গোয়া যাচ্ছি  !!এক সপ্তাহের ট্যুর।চাইলে তুইও যেতে পারিস। ইমাজিন কর---- গোয়ার বিচে বিকিনি পরে  তুই ঘুরে বেড়াচ্ছিস, আর আমি এক হাতে কাজুফেনি নিয়ে গোয়ানিজ্ ডান্স করছি।  যা জমবে না !!! পুরো ট্যুর টা। জুম বলে হ্যাঁ, একদম জমে ক্ষীর হয়ে যাবে।আমি এতদিন ছুটি পাব না-----।যা খিটখিটে বস্।ছুটি চাইলেই মুখ টা আমাশা রুগির মত হয়ে যাবে। নীল বলে ,চল না ছুটি ম্যানেজ কর প্লিজ!!!!! জাস্ট ইমাজিন!!!! গোয়ার বিচে শুধু তুই আর আমি।সারাদিন বিচের ধারে ঘুরে বেড়াবো। বর্ষাকালে গোয়ার বিচগুলো ভরা যৌবনে পা রাখা সুন্দরী যুবতীর মত উত্তাল ,উদ্যোমে ভরা ।প্রকৃতি যেন ঢ...

ভাপা ইলিশ

ছবি
 ভাপা ইলিশ দাদু বেশ বড় আকারের ইলিশ মাছ বাজার করে এনেছে।বুঝলে গিন্নি !!!!   একটা টাটকা ইলিশ পেয়েছি ,জম্পেশ করে রাঁধো তো দেখি!!!!সর্ষে কাঁচালঙকা দিয়ে ভাপা ইলিশ করো। কলকাতায় দাদুর বাড়ি গেলে গঙ্গার টাটকা ইলিশ মাছ খাব না তা হয় না। দাদু বরাবর মাছ রান্না করতে ভালোপারতেন।  সরষে কাঁচা লঙ্কা বাঁটা  দিয়ে ভাপা ইলিশের স্বাদ হত অপূর্ব। বড় বড় রেস্টুরেন্টও ফেল হয়ে যেত। ভাপা ইলিশ  নিজের হাতে রান্না করে  পাড়ার লোকজন কেও খাইয়েছেন । তাই পাড়াতে দাদুকে ইলিশ দাদু বলে ডাকতো। যদুবাবর বাজারে গিয়ে টাটকা ইলিশ মাছ পেয়ে তিনি বেজায় খুশি। একেই বলে মাছের রাজা,বুঝলে দিদিভাই কথায় বলে মাছে ভাতে বাঙালি ।একদম খাঁটি কথা ,  এখন তো মাছের নানারকম  পদ তৈরি হয় শুনেছি  তাতে ইলিশ মাছের আসল স্বাদটা পাওয়া যায় না ।মাছের মাছতব্ না থাকলে মাছখাওয়া হল এটা মনে হয় না।  বাঁটা মসলার  সাবেকি রান্নাতে সেই স্বাদ  গন্ধ মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়।ইলিশের স্বাদ তো ইলিশের গন্ধে। তবেই তো ইলিশ রানির এতো কদর । এজন্যই ইলিশ দাদুর হাতের ইলিশ মাছ সবার এত প্রিয়!!!!!! সোমা...

মেলার প্রেম

ছবি
 মেলার প্রেম  বন্ধুদের সঙ্গে রথের মেলা গেছি।কলেজ ডুব মেরে রথের মেলায় ঘুরছি আর একবার করে এদিক ওদিক ঘুরে দেখছি পাড়ার কেউ আসে নি তো!!! মায়ের কাছে খবর গেলেই তো বেলনা  দিয়ে মার খাব।ভয়ে ভয়ে কি আর মেলা ঘোরা হয়? দোকানে খেতে ঢুকেছি, দেখি একদল ছেলে দোকানে বসে আছে।আমি হাফ প্লেট  চিকেন চাউ অর্ডার করেছি।ওমা ,একটা হিরো গোছের  ছেলেও হাফ প্লেট  চিকেন চাউ অর্ডার দিল।   যা অর্ডার করছি ওরা সেটাই অর্ডার দিচ্ছে,ব্যাপার টা সুবিধার নয় দেখে , হচ্ছে টা কি? বলে চিৎকার করেছি ।সেই ছেলেটি বলে উঠল প্রেম ।সাহস করে এগিয়ে যেতেই ছেলেটি  লাভ এট ফার্স্ট সাইট   গোছের তাকালো। এগিয়ে গিয়ে বললাম,  দোকানে চিকেন চাউ ছাড়াও অনেক কিছুই  পাওয়া যায়-------। ছেলেটি আরও কাছে এসে বলল চিকেন চাউ আমার খুব প্রিয়------।   দোকানি  কি বুঝলো কে জানে, ফুল প্লেট  চিকেন চাউমিন এনে বলল খাবার ব্যাপারে যখন এত্ত মিল তখন দুজনেই ভাগ করে খাও। ঝগড়া করতে হবে নি।   হে হে হে।  সোমা গাঙ্গুলী

প্রেমে পড়া❤️

ছবি
  হটাৎ ঘুম ভাঙতেই ফিসফিস শব্দ  শুনতে পেলাম।ছেলের ঘর থেকেই শব্দ আসছে মনে হল। ধীরে ধীরে দরজা খুলছি, দরজার ক্যাচ শব্দ পাওয়া মাত্রই ছেলে ঘুমের ভান করে পড়ে রইল।একদিন হাতেনাতে ধরব বলে রেডি হয়ে আছি ,সেদিন কোনো ফিসফাস  আওয়াজ নেই। মনে মনে ভাবলাম বাপ কা বেটা।ওর বাবাও তো এভাবেই রাত জেগে আমার সঙ্গে প্রেম করতো।ছেলে ফোনে প্রেমালাপ করছে, বাবা পত্রে প্রেমালাপ করেছে।কেবল স্থান কাল পাত্র আলাদা। পরদিন রাত্রে ছেলে জানালো ওর গ্রুপ স্টাডি আছে তাই ওর শুতে দেরি হবে। ছেলের দিকে তাকিয়ে নিজেদের যৌবনের ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরেগেলাম।তখন কলেজে পড়ি।লুকিয়ে চুরিয়ে প্রেম করছি।বাবার কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে মিথ্যে কথাবলে কতকিছু ম্যানেজ  করেছি।কলেজ ডুব দিয়ে সিনেমা দেখা,ময়দানে গিয়ে গড়ের মাঠে প্রেম করা। কি না করেছি!! আর এখন ছেলে করলেই আপত্তি!!!!!  ছেলেকেও খোলা আকাশে ডানা মেলতে দিলাম ।প্রথম যৌবনের নিষ্পাপ  ভালোবাসার আনন্দ  ভোগ করতে দিলাম ।বয়সের ধর্ম কে জোর করে দাবিয়ে  কোনও লাভ নেই । যা সহজাত, তাকে রোধ করা যায় না। ছেলেকে বললাম মন দিয়ে স্টাডি কর আর সময়মত শুয়ে পড়বে। নিজের ম...

বিকেলে ভোরের ফুল

ছবি
 বিকেলে ভোরের ফুল বিমানের পাইলট গৌরব আমার ওপর তলায় থাকে। একজন কমবয়সী ভদ্র লোক ।কেবিন ব্যাগ নিয়ে প্রায়ই বিমানবন্দরের দিকে যেতে দেখি।সুদর্শন, সুঠাম চেহারার হাসিমুখ যুবকের সঙ্গে বাড়ির লিফ্টে উঠতে গিয়ে অনেকবার দেখা হয়েছে।হাই ,হেলো  সুপ্রভাত জানানো ব্যাস এটুকুই কথা হয়। দিল্লীর এয়ারপোর্ট  অঞ্চলে থাকার জন্য আমাদের ফ্লাটে প্রচুর  পাইলট,এয়ারহোস্টেস ভাড়া থাকতো। একবার বিমান ধরতে এয়ারপোর্ট যাচ্ছি হঠাৎই সেই পাইলটের সাথে দেখা  একথা সেকথার পর একদিন বাড়িতে চা পানের নিমন্ত্রণ জানাই। ঠিক দিন দুয়েক বাদে হাতে ফুলের বুখে নিয়ে গৌরব আমার ফ্ল্যাটে হাজির।মনে হল  ঘরেএকটা সুন্দর  টাটকা বাতাস বয়ে এলো।মন খুশিতে ডগমগ করে উঠল।  বহুদিন পর এমন ভালোলাগার মুহূর্ত খুঁজে পেলাম।  মেয়ে চাকরিসুত্রে বিদেশে থাকে দেশে আমি একা!! জীবনের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে দাড়িয়ে আমি সঙ্গী খুঁজছিলাম। বয়স কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পাইলটের সঙ্গ বেশ উপভোগ্য মনে হল।এরপর থেকে প্রায়  প্রতিদিনই আমরা ডিনারে বাইরে যেতাম। পড়ন্ত বেলায়  এসে জীবন কে নতুন করে চিনছিলাম।সুন্দর মুহূর্ত গুলো উ...

রানুর বিয়ে

 ছিমছাম চেহারার হাসিমুখ মেয়েটির বিয়ে।ঘরে এখন সাজো সাজো রব।বাড়ির বড়রা সবাই ব্যস্ত। আত্মীয় অতিথিদের কোথায় রাখা হবে,খাবারের মেনু কি হবে এই নিয়ে আলাপ আলোচনার শেষ  নেই।রানুর মা ও রানুর বিয়ের  গয়নাগাটি শাড়ি কাপড় কেনা নিয়ে ব্যস্ত। ওদিকে রানুর মুখে হাসি নেই।  ওর একটাই  চিন্তা নতুন পরিবেশে নতুন জায়গাতে ও মানিয়ে নিতে পারবে তো?ছেলের বাড়ির  সকলেই খুব ভালো মানুষ ,আর রানুর বর!!! সে তো রানুকে পছন্দ করে ,ভালোবাসে ।তবুও রানুর মনে একটা খটকা লেগেই থাকে। ঘোষ পরিবারের বড় মেয়ে বানি বিয়ের পর থেকেই বাপের বাড়িতে থাকে।বড় আদুরে মেয়ে,একটু মেজাজি।বড্ড রাগি।শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি।স্বামীর সঙ্গে থাকতে নারাজ তাই এখানে থাকে।রানুর বিয়ের ঠিক হবার পর বানি বলেছিল বুঝলি বোন* মতের মিল না হলে শ্বশুরবাড়িতে না থাকাই ভাল *। মা বলে ,নতুন পরিবেশে নতুন মানুষজনদের চিনতে জানতে কিছু সময় লাগে।ভালোবাসা পেতে গেলে ভালোবাসতে  জানতে হয়।আমিও তো এক বাড়ি থেকে এসে এ বাড়িকে আপন করে নিয়েছি।হ্যাঁ, কিছু সময় লাগে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে ।তারপর ধীরে ধী...