পোস্টগুলি

অভিজ্ঞতা

  অভিজ্ঞতা আমরা সবাই খুব একা । আমরা নিজের ! নিজের! করে এত যে আগলে ধরে রাখার চেষ্টা করি এ সব কিছুই বৃথা চেষ্টা মাএ।বাবা, মা, ভাই, বোন ,স্বামী, সন্তান কেউ- ই আমার নিজের নয়। কিছু সময়ের জন্য শুধু একসাথে পথ চলা।পথ শেষ হয়ে এলে বেলা শেষে সবাই একা!  আসলে কেউ কারো জন্য নয়।তোমার ভেতরের অনুভূতিগুলো ,না বলা কথাগুলো, তোমার দুঃখ, কষ্ট সব বুকের মধ্যেই  দলা পাকিয়ে যে গুলো  ঘুরতে থাকে; সে গুলো তোমাকেই হজম করতে হবে। হাসিমুখে হজম করতে হবে- আদতে কেউই কারোর নয়।তুমিই শুধু তোমার।  মানুষ বড় স্বার্থপর প্রাণী। স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে কে কার ? কে আমার?  সংসারের পুতুল খেলা শেষ হয়ে গেলে খালি হাতে যে যার মত করে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া। আমার আমার  করে বড্ড বেশি  আঁকড়ে ধরে লাভ নেই , ছাড়তেও শিখতে হয়।           সোমা গাঙ্গুলী

হ্যালো মিলি---

হ্যালো মিলি--- তুমি আসবে বলেই হয়ত আজ একটু তাড়াতাড়ি  ঘুম  থেকে  উঠে পড়েছি।সকাল টা যে এত সুন্দর না দেখলে জানতেই পারতাম না!    মিলির জীবনে আজ বিশেষ দিন। তাই মিলির উৎসাহের শেষ নেই। ফাইনালি  ; ফাইনালি!!! তার স্বপ্নের রাজকুমার আজ তার সাথে দেখা করতে  আসছে। এতদিন ফোনে প্রেমালাপ হয়েছে, কিন্ত কেউ কাউকে দেখেনি। আজ দুজন দুজনকে দেখবে; চিনবে। সকাল বেলা মিলি উঠে তাই শরীর চর্চায় ব্যাস্ত।  কখনও মুখে ফেসিয়াল করছে; তো কখনও চুলের স্টাইল পাল্টাচ্ছে-  আফটার অল ওকে সুন্দরী লাগতে হবে তো-  ফুলের বুখে নিয়ে মিলি এয়ারপোর্ট  যাবে  স্বাগত  জানাতে।প্রথম দেখাতে সে হাই হেলো বলবে নাকি শুধু ফুলের বুখে দিয়ে স্বাগত জানাবে  নাকি ওকে হাগ্ করবে তা ভেবে পারছে না। সহজ সরল একটা মিষ্টি ফুলের মত  মেয়ে মিলির আজ ভারি আনন্দের দিন। এই সুন্দর মুহূর্ত গুলোকে  মিলি তার মনের ক্যানভাসে ধরে রাখতে চাই।  অবশেষে সেই মাহিন্দ্রক্ষন এল। মিলি ওতি উৎসাহে হাই হেলো বলে স্বাগত জানালো আর ওর সুন্দর ফুলের বুখেটা নিজের হাতেই থেকে গেলো। বেচারা মিলি সোমা গাঙ্গুলী

মহালয়া

মহালয়া  মহালয়া বলতেই চোখের সামনে রেডিওর কথা পড়ে।আর মনে পড়ে সন্ধ্যে থেকেই ফটকার দুমদাম আওয়াজ এবং অবশ্যই মহালয়ার রাতে রেডিও বিছানার পাশে রেখে নিশ্চিন্ত ঘুমোতে যাওয়া। মহালয়ার পুণ্য তিথিতে কাকভোরে উঠে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মহিষাসুরমর্দিনি শুনতে শুনতেই আবার ঘুমিয়ে পড়া।  সকাল বেলা  উঠোনময় ছড়িয়ে থাকা শিউলি ফুল কুড়ানো।কাশ্ বনে ছুটে গিয়ে কাশ্ ফুলের রেণু ছড়ানো। বাঙালির কাছে মহালয়া মানেই রেডিওতে চণ্ডীপাঠ শোনা ; তারপরে টি ভি তে  মহালয়া দেখা।   সকালে গঙ্গার  ঘাটে ঘাটে তর্পন,  পূর্ব পুরুষদের  স্মৃতির উদ্দেশ্যে জলদান এগুলোর মধ্য দিয়েই পিতৃপক্ষের শেষ  ও দেবী পক্ষ শুরু । বছরভর অপেক্ষার পর মহালয়ার দিন  থেকেই  দেবী পক্ষের সুচনা আর তারপরেই মা দুর্গার পুজো শুরু হয়ে যায়। মহালয়া থেকেই আপামর বাঙালি আবেগের জোয়ারে ভাসতে থাকে। সোমা গাঙুলী

work from home!

ছবি
 কিরে- কবে এ বাড়িতে আসবি?কবে যে আসতে পারবো জানিনা।ঘর এখন অফিস হয়ে গেছে !! -অফিস গেলে তো হাঁফ ছেড়ে বাঁচি । ঘরে থাকলেই তো খিচখিচ ঝিকঝিক । একে তো একটা পুরো ঘর দখল করে বসে থাকে; কেউ সে ঘরে ঢুকতে পারবে না।হয় মিটিং নয়তো ফোনে কথা হচ্ছে।  -ওয়ার্ক ফর্ম হোম যেদিন থেকে শুরু হয়েছে সেদিন থেকে এ সি বিল মাত্রা ছাড়া বেড়েছে। ঘরের ফ্যান ,লাইট ,এসি বদ্ধ হবার নাম নেই। মাসের শেষে তাই ইলেকট্রিক বিলও দ্বিগুন আসছে। জোরে কথা বলার জো নেই, টি ভি মিউট করে দেখতে হচ্ছে। ঘরে কোনও লোক আসলেই চিন্তা;ফিসফিস করে কথা বলতে হয়। পোষা কুকুর টা কেবলই দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে; তাকে নিয়েও এক বিড়ম্বনা।  সারাদিন ল্যাপটপ আর মাঝেমধ্যেই গরম চায়ের ফরমাইস, কোথাও যে ঘুরে আসবো তার উপায় নেই।  কোম্পানির তো ভালোই হয়েছে ;।বাড়ি থেকে কাজের ব্যাবস্থা করে দিয়েছে। আমাদের হয়েছে যত্তসব ঝামেলা। পুরোপুরি অফিস খুলে গেলে আমরা একটু প্রাণ খুলে বাঁচি আরকি। সোমা গাঙ্গুলী

মিলনের উৎসব

ছবি
  মিলনের উৎসব - দুর্গা পুজো আসতে মাত্র  আর কয়েকটা দিন  বাকি।মুখার্জি বাড়ির দুর্গোৎসব এবছরে সুবর্ণ জয়ন্তী পালিত হবে।  -৫০ বছরের পুরানো দুর্গোৎসব কে ঘিরে বাড়ির লোকজনের আনন্দের সীমা নেই।  -বছরভর অপেক্ষার পর মা উমা মর্তে  আসছেন। তাই দুর দুরান্ত থেকে সব আত্মীয়দের আনাগোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। বাড়ির  কর্তামশাই দোর্দন্ড প্রতাপ শশধর মুখার্জি এখন সদাব্যস্ত । তার হুকুম মত পুজোর কটাদিন  গোটা বাড়ি আলোর মালাতে সেজে উঠেছে।মায়ের  চারদিনের ভোগের  বিশেষ আয়োজন - নারকোল সন্দেশ,ভাপা সন্দেশ, ভাজাভুজি ,লুচি পোলাও   পায়েস আরও হরেক রকম ভোগের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। গোটা গ্রামে খুশির হাওয়া!!! তারা পুজোর কটা দিন পাত পেড়ে ভোজ খাবে।মুখার্জি বাড়ির  ঐতিহ্য বাহি দুর্গাপুজো বলে কথা। -- আকাশে বাতাসে আগমনির সুর শোনা যাচ্ছে!!!! শরৎের আকাশে পেঁজাতুলোর আনাগোনা আর কাশ্ ফুলের গন্ধে সারা বাংলা ম্ ম্  করছে। বিদেশ থেকে ছেলে তার পরিবার নিয়ে এসে গেছে।মেয়ের আসা নিয়ে কর্তা মশাই চিন্তিত।  ঘরের মেয়ে এলে তবেই তো  আনন্দ উৎসবের ষোলআনাই পূর্ণ হবে।...

পাগল মন

 পাগল মন তুমি যদি ভাবো তুমি সবজান্তা!!!!! তবে জীবনে আর কিছুই শিখতে পারবে না। জীবনে অনেক কিছুই শেখার আছে!!!জানার আছে!!! শেখার কোনও বয়স হয় না -------- তাই সবজান্তা না ভেবে শেখার চেষ্টা কর। সোমা গাঙ্গুলী

জাস্ট ইমাজিন

ছবি
  জাস্ট ইমাজিন  মাঝে  মাঝে  মনে হয় তোকে গিয়ে জড়িয়ে ধরি !!!আদর করি !!! খুব ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।মনে হয় হাতে  হাত ধরে  হাঁটতে থাকি দুজনে ।যে দিকে দুচোখ যায় সেদিকে শুধু তুই  আর আমি!! জুম বলে ,  কবে যে আসবে সে দিন-------  কি রে ,কিছু বললি না যে--‐ নীল ফোনটা নামিয়ে বলে ,বসের  ডাক পড়েছে।চললাম!!! তুই  না  একটা হোপলেস ,বুঝলি। কিছুক্ষন পর বসের রুম থেকে ফিরে এসে নীল বলে ,শোন্  জুম গোয়া যাচ্ছি  !!এক সপ্তাহের ট্যুর।চাইলে তুইও যেতে পারিস। ইমাজিন কর---- গোয়ার বিচে বিকিনি পরে  তুই ঘুরে বেড়াচ্ছিস, আর আমি এক হাতে কাজুফেনি নিয়ে গোয়ানিজ্ ডান্স করছি।  যা জমবে না !!! পুরো ট্যুর টা। জুম বলে হ্যাঁ, একদম জমে ক্ষীর হয়ে যাবে।আমি এতদিন ছুটি পাব না-----।যা খিটখিটে বস্।ছুটি চাইলেই মুখ টা আমাশা রুগির মত হয়ে যাবে। নীল বলে ,চল না ছুটি ম্যানেজ কর প্লিজ!!!!! জাস্ট ইমাজিন!!!! গোয়ার বিচে শুধু তুই আর আমি।সারাদিন বিচের ধারে ঘুরে বেড়াবো। বর্ষাকালে গোয়ার বিচগুলো ভরা যৌবনে পা রাখা সুন্দরী যুবতীর মত উত্তাল ,উদ্যোমে ভরা ।প্রকৃতি যেন ঢ...